ঢাকা , সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬ , ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লন্ডনে নাকবা দিবসের র‍্যালিতে আড়াই লাখ মানুষের অংশগ্রহণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৫-১৭ ১০:৫৯:৫২
লন্ডনে নাকবা দিবসের র‍্যালিতে আড়াই লাখ মানুষের অংশগ্রহণ লন্ডনে নাকবা দিবসের র‍্যালিতে আড়াই লাখ মানুষের অংশগ্রহণ
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
যুক্তরাজ্যের সেন্ট্রাল লন্ডনে নাকবা দিবসের ৭৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক গণসমাবেশ ও মিছিলে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

শনিবার এই কর্মসূচি চলাকালীন একই সময়ে কট্টর ডানপন্থি অ্যাক্টিভিস্ট টমি রবিনসনের নেতৃত্বে পৃথক একটি পাল্টা প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মেট্রোপলিটন পুলিশ এই সমাবেশগুলোকে কেন্দ্র করে ৪ হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে। পুলিশ একে একটি ‘নজিরবিহীন’ গণ-নিরাপত্তা অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছে।

বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এই বিক্ষোভের ঘটনায় ৩১ জনকে গ্রেফতারের কথা ঘোষণা করেছে পুলিশ। তবে গ্রেফতারকৃতরা কোন সমাবেশের তা সুনির্দিষ্টভাবে জানানো হয়নি।

১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জায়নবাদী মিলিশিয়াদের হাতে ৭ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে তাদের ভূখণ্ড থেকে বিতাড়ন এবং ১৩ হাজারেরও বেশি মানুষকে হত্যার ঘটনা স্মরণ করে প্রতি বছর এই ‘নাকবা দিবস’র মিছিলের আয়োজন করা হয়। ‘প্যালেস্টাইন সলিডারিটি ক্যাম্পেইন’সহ বেশ কয়েকটি সংগঠনের জোট এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

অন্যদিকে, রবিনসনের ‘ইউনাইট দ্য কিংডম’র বিক্ষোভকে ‘একতা, সচেতনতা এবং যৌথ দায়িত্বের ওপর আলোকপাত করা একটি জননেতৃত্বাধীন সমাবেশ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

এর আগে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইউনাইট দ্য কিংডমের এক সমাবেশে কট্টর ডানপন্থি বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং মুসলিমবিরোধী স্লোগান দেয়, যার ফলে ২৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

কঠোর পুলিশি নজরদারিতে দুটি বিক্ষোভের জন্য আলাদা রুট নির্ধারণ করায় কেনসিংটন থেকে পল মল পর্যন্ত ফিলিস্তিনি পতাকা ও কেফিয়্যাহ জড়ানো বিক্ষোভকারীদের ভিড়ের মধ্যে কট্টর ডানপন্থি বিক্ষোভকারীদের খুব একটা দেখা যায়নি।

‘নাকবা ৭৮’ মিছিলের আয়োজকরা অংশগ্রহণকারীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তারা কট্টর ডানপন্থি বিক্ষোভকারীদের সাথে কোনো ধরনের বাকবিতণ্ডায় না জড়ান।

সমাবেশে বক্তব্য দেন ‘ইউর পার্টি’র এমপি জারা সুলতানা ও জেরেমি করবিন, স্বতন্ত্র এমপি ডায়ান অ্যাবট এবং লেবার পার্টির এমপি জন ম্যাকডোনেল।

ম্যাকডোনেল মিডল ইস্ট আই-কে বলেন, ‘নাকবা দিবসের এই মিছিলটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গাজায় গণহত্যা অব্যাহত রয়েছে এবং লন্ডনে কট্টর ডানপন্থিরা মিছিল করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের এখন যা করতে হবে তা হলো আমাদের সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখা, যাতে তারা দৃঢ় এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ পদক্ষেপ দেখায়, কারণ তারা এখনো ইসরাইলকে অস্ত্র সরবরাহ করছে এবং কার্যকর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে অস্বীকার করছে।’

গাজার ফিলিস্তিনি শরণার্থী অধিকারকর্মী হালা হানিনা, যার পরিবার নাকবার সময় বাস্তুচ্যুত হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘নাকবা এখনো চলছে।’

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলের অভিযান শুরু হওয়ার কয়েক দিন আগে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে আসেন। তিনি বলেন, ‘গাজা এখন প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, অন্যদিকে পশ্চিম তীরের পরিস্থিতিও অত্যন্ত খারাপ। আমাদের পরিবারের সদস্যরা এখনো প্রতিদিন নিহত হচ্ছেন এবং এই কারণেই আমাদের মিছিল চালিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।’




 

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ